ঢাকা    মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
পর্যন্ত নিউজ

ইউক্রেন সীমান্তে ড্রোন হামলায় নিহত কিশোরগঞ্জের তরুণ



ইউক্রেন সীমান্তে ড্রোন হামলায় নিহত কিশোরগঞ্জের তরুণ

রাশিয়ায় ড্রোন হামলায় কিশোরগঞ্জ জেলার জাফরাবাদ মাঝিরকোনা গ্রামের বাসিন্দা রিয়াদ রশিদ (২৬) নিহত হয়েছেন। তিনি জাফরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুর রশিদের একমাত্র ছেলে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৯ মাস আগে পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করতে জীবিকার সন্ধানে রাশিয়ায় পাড়ি জমান রিয়াদ। সেখানে বিভিন্ন পেশায় কাজ করার পর সম্প্রতি রাশিয়ান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন তিনি। সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার মাত্র এক মাস সাত দিনের মাথায় মৃত্যুর খবর আসে তার পরিবারের কাছে।

গত ২ মে ইউক্রেন-পোল্যান্ড সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় ঘটনাস্থলেই রিয়াদের মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবারকে জানানো হয়। একই ঘটনায় আরও তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে। তবে তাদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

রিয়াদের মৃত্যুসংবাদ দেশে পৌঁছানোর পর থেকেই গ্রামে শোকের মাতম শুরু হয়। পরিবারের একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাবা-মা ও দুই বোন ভেঙে পড়েছেন। সংসারের হাল ধরার স্বপ্ন নিয়েই বিদেশে পাড়ি দেওয়া এই তরুণের এমন অকাল মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের আবহ।

স্থানীয়দের ভাষ্য, রিয়াদ ছোটবেলা থেকেই শান্ত, ভদ্র ও পরিশ্রমী ছিলেন। পরিবারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেওয়ার ইচ্ছাই তাকে বিদেশমুখী করেছিল।

জাফরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাদাৎ মো. সায়েম গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, “রিয়াদের মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।”

এদিকে, পরিবার ও এলাকাবাসী সরকারের কাছে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে রিয়াদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন, যাতে পরিবার শেষবারের মতো তাকে বিদায় জানানোর সুযোগ পায়।

আপনার মতামত লিখুন

পর্যন্ত নিউজ

মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬


ইউক্রেন সীমান্তে ড্রোন হামলায় নিহত কিশোরগঞ্জের তরুণ

প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬

featured Image

রাশিয়ায় ড্রোন হামলায় কিশোরগঞ্জ জেলার জাফরাবাদ মাঝিরকোনা গ্রামের বাসিন্দা রিয়াদ রশিদ (২৬) নিহত হয়েছেন। তিনি জাফরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুর রশিদের একমাত্র ছেলে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৯ মাস আগে পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করতে জীবিকার সন্ধানে রাশিয়ায় পাড়ি জমান রিয়াদ। সেখানে বিভিন্ন পেশায় কাজ করার পর সম্প্রতি রাশিয়ান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন তিনি। সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার মাত্র এক মাস সাত দিনের মাথায় মৃত্যুর খবর আসে তার পরিবারের কাছে।

গত ২ মে ইউক্রেন-পোল্যান্ড সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় ঘটনাস্থলেই রিয়াদের মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবারকে জানানো হয়। একই ঘটনায় আরও তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে। তবে তাদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

রিয়াদের মৃত্যুসংবাদ দেশে পৌঁছানোর পর থেকেই গ্রামে শোকের মাতম শুরু হয়। পরিবারের একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাবা-মা ও দুই বোন ভেঙে পড়েছেন। সংসারের হাল ধরার স্বপ্ন নিয়েই বিদেশে পাড়ি দেওয়া এই তরুণের এমন অকাল মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের আবহ।

স্থানীয়দের ভাষ্য, রিয়াদ ছোটবেলা থেকেই শান্ত, ভদ্র ও পরিশ্রমী ছিলেন। পরিবারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেওয়ার ইচ্ছাই তাকে বিদেশমুখী করেছিল।

জাফরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাদাৎ মো. সায়েম গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, “রিয়াদের মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।”

এদিকে, পরিবার ও এলাকাবাসী সরকারের কাছে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে রিয়াদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন, যাতে পরিবার শেষবারের মতো তাকে বিদায় জানানোর সুযোগ পায়।


পর্যন্ত নিউজ


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পর্যন্ত নিউজ