ঢাকা    শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
পর্যন্ত নিউজ

১৭ বছর পর আবার আলোচনায় মেসি-ইয়ামালের সেই ঐতিহাসিক ছবি



১৭ বছর পর আবার আলোচনায় মেসি-ইয়ামালের সেই ঐতিহাসিক ছবি
ছবি: সংগৃহীত

একটি ছবি, একটি মুহূর্ত, আর তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অবিশ্বাস্য এক গল্প। ২০০৭ সালে লিওনেল মেসির কোলে থাকা মাত্র পাঁচ মাসের এক শিশুই যে একদিন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম উজ্জ্বল তারকায় পরিণত হবে, তা তখন কেউ কল্পনাও করেনি। সেই শিশুই আজকের স্পেনের বিস্ময়কর প্রতিভা লামিন ইয়ামাল। ১৭ বছর পর ছবিটি আবারও আলোচনায় এসেছে এবং ফুটবলপ্রেমীদের আবেগ ছুঁয়ে গেছে।

ঘটনাটি ২০০৭ সালের ডিসেম্বরের। তখন মাত্র ২০ বছর বয়সী মেসি বার্সেলোনার হয়ে নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর পথে ছিলেন। ইউনিসেফ ও কাতালুনিয়ার স্থানীয় সংবাদপত্র দিয়ারিও স্পোর্ট-এর যৌথ উদ্যোগে একটি চ্যারিটি ক্যালেন্ডারের জন্য বিশেষ ফটোশুটের আয়োজন করা হয়। লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত হয় কাতালুনিয়ার মাতারো এলাকার একটি স্বল্প আয়ের পরিবার। পুরস্কার হিসেবে তাদের পাঁচ মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে মেসির সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ দেওয়া হয়। সেই শিশুটিই ছিলেন বর্তমান স্প্যানিশ তারকা লামিন ইয়ামাল।

ফটোশুটটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল বার্সেলোনার কিংবদন্তি ক্যাম্প ন্যুর ড্রেসিংরুমে। আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্ট পরে জানান, ছোট্ট ইয়ামালকে পানিভর্তি একটি প্লাস্টিকের টাব থেকে কোলে নিতে গিয়ে মেসি বেশ অস্বস্তিতে পড়েছিলেন। স্বভাবগত লাজুক মেসিকে তখন সাহায্য করেছিলেন ইয়ামালের মা শেইলা ইবানা। তাদের সহযোগিতাতেই ধারণ করা হয় সেই স্মরণীয় ছবিগুলো, যা পরবর্তীতে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম প্রতীকী ছবিতে পরিণত হয়।

ছবিটি এত বছর জনসমক্ষে না আসার পেছনেও ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। ইয়ামালের বাবা প্রায় ১৭ বছর ধরে ছবিগুলো প্রকাশ করেননি। তার আশঙ্কা ছিল, ছোটবেলা থেকেই মেসির সঙ্গে তুলনা শুরু হলে ছেলের ওপর অপ্রয়োজনীয় মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। অবশেষে ২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ চলাকালে তিনি ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। এরপরই সেগুলো বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয়ে যায়।

ছবিটি প্রকাশের পর ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নানা রসিকতাও ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ মজা করে বলেন, গোসলের সেই মুহূর্তেই মেসি যেন অজান্তে নিজের ফুটবল প্রতিভার ‘জাদু’ ছোট্ট ইয়ামালের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। যদিও এটি নিছকই ভক্তদের কল্পনা, তবু ছবিটি আজও ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আবেগঘন, স্মরণীয় এবং প্রতীকী মুহূর্তগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।

আপনার মতামত লিখুন

পর্যন্ত নিউজ

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬


১৭ বছর পর আবার আলোচনায় মেসি-ইয়ামালের সেই ঐতিহাসিক ছবি

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

একটি ছবি, একটি মুহূর্ত, আর তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অবিশ্বাস্য এক গল্প। ২০০৭ সালে লিওনেল মেসির কোলে থাকা মাত্র পাঁচ মাসের এক শিশুই যে একদিন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম উজ্জ্বল তারকায় পরিণত হবে, তা তখন কেউ কল্পনাও করেনি। সেই শিশুই আজকের স্পেনের বিস্ময়কর প্রতিভা লামিন ইয়ামাল। ১৭ বছর পর ছবিটি আবারও আলোচনায় এসেছে এবং ফুটবলপ্রেমীদের আবেগ ছুঁয়ে গেছে।

ঘটনাটি ২০০৭ সালের ডিসেম্বরের। তখন মাত্র ২০ বছর বয়সী মেসি বার্সেলোনার হয়ে নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর পথে ছিলেন। ইউনিসেফ ও কাতালুনিয়ার স্থানীয় সংবাদপত্র দিয়ারিও স্পোর্ট-এর যৌথ উদ্যোগে একটি চ্যারিটি ক্যালেন্ডারের জন্য বিশেষ ফটোশুটের আয়োজন করা হয়। লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত হয় কাতালুনিয়ার মাতারো এলাকার একটি স্বল্প আয়ের পরিবার। পুরস্কার হিসেবে তাদের পাঁচ মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে মেসির সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ দেওয়া হয়। সেই শিশুটিই ছিলেন বর্তমান স্প্যানিশ তারকা লামিন ইয়ামাল।

ফটোশুটটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল বার্সেলোনার কিংবদন্তি ক্যাম্প ন্যুর ড্রেসিংরুমে। আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্ট পরে জানান, ছোট্ট ইয়ামালকে পানিভর্তি একটি প্লাস্টিকের টাব থেকে কোলে নিতে গিয়ে মেসি বেশ অস্বস্তিতে পড়েছিলেন। স্বভাবগত লাজুক মেসিকে তখন সাহায্য করেছিলেন ইয়ামালের মা শেইলা ইবানা। তাদের সহযোগিতাতেই ধারণ করা হয় সেই স্মরণীয় ছবিগুলো, যা পরবর্তীতে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম প্রতীকী ছবিতে পরিণত হয়।

ছবিটি এত বছর জনসমক্ষে না আসার পেছনেও ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। ইয়ামালের বাবা প্রায় ১৭ বছর ধরে ছবিগুলো প্রকাশ করেননি। তার আশঙ্কা ছিল, ছোটবেলা থেকেই মেসির সঙ্গে তুলনা শুরু হলে ছেলের ওপর অপ্রয়োজনীয় মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। অবশেষে ২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ চলাকালে তিনি ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। এরপরই সেগুলো বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয়ে যায়।

ছবিটি প্রকাশের পর ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নানা রসিকতাও ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ মজা করে বলেন, গোসলের সেই মুহূর্তেই মেসি যেন অজান্তে নিজের ফুটবল প্রতিভার ‘জাদু’ ছোট্ট ইয়ামালের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। যদিও এটি নিছকই ভক্তদের কল্পনা, তবু ছবিটি আজও ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আবেগঘন, স্মরণীয় এবং প্রতীকী মুহূর্তগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।


পর্যন্ত নিউজ


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পর্যন্ত নিউজ