ঢাকা    মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
পর্যন্ত নিউজ

তানভীর সিকদার-এর নির্বাচিত পাঁচটি কবিতা



তানভীর সিকদার-এর নির্বাচিত পাঁচটি কবিতা
কবি তানভীর সিকদার ছবি: সৌজন্যে

নিয়তি

গ্যালিলিওর পড়ন্ত বস্তুর সূত্র পড়তে পড়তে

প্রথমবার মন পিছলে আমি

পড়ে গিয়েছিলাম তোমার প্রেমে!

কোনো এক অদ্ভুত মোহাচ্ছন্ন জাদুতে

আমার কল্পনায় ধীরে ধীরে তুমি হয়ে উঠলে

লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চির সেই মোনালিসা।

পড়তে বসলেই —

পদার্থবিজ্ঞানের গতিবিদ্যা চ্যাপ্টারে ছাপার কালিতে বন্দী

যাপন করা হরফগুলো জড়ো হয়ে

এঁকে দেখাতো উপমাবিহীন তোমার দু'টি চোখ!

বস্তুর গতি কিংবা নিউটনের গতিসূত্র পাশ কাটিয়ে

নোটখাতার একপাশে স্থান করে নিয়েছিলো

প্রেমসূত্র— 'নিয়তি'

তারপর যেটুকু জিকির করলে 

ঈশ্বর নেমে আসে বুকে

তারও অধিক স্মরেছি তোমার নাম- নীরবে,ধ্বণিতে।

একপড়ন্ত বিকেলে কোচিং ফেরত 

আমরা হয়ে উঠলাম একে অপরের;

জংধরা অনুভূতিগুলো সজীব হয়ে উঠলো মুহুূর্তেই! 

পপকর্নের মতো ভালোবাসা ফোটতে থাকলো

তোমার দু'টি চঞ্চুতে, বিরামহীন।

আঙুলে আঙুল জড়িয়ে পায়ের স্কেল মাপতে মাপতে

আমরা যেনো বিলীন হয়ে যাচ্ছিলাম প্রীতির সবুজে।

হৃদয়ের সহস্র আকুতি, সুখ-দুঃখের হিসাব নিকাশ

আর ফোনের রিচার্জবিল সমান্তরাল রাখার শপথ নিয়ে

আমরা আমাদের দূরত্বের সময়টুকুর নাম রেখেছিলাম 'বিশ্বাস'।

ভালো থাকার রোজনামচা

চোখের আলপথ ধরে এখানে এখন আর স্বপ্ন আসে না।

তপ্ত জলের প্রতিটি ফোঁটায় ফোঁটায় এখানে ভেসে উঠে না

আর কোনো হৃদয় পোড়ানো মানুষের মুখচ্ছবি। 

এখানে এখন রোজ ভালোবাসা আসে–

এখানে এখন প্রতিটি মুহূর্তে ভালো থাকা আসে।

আগলে রাখার মানুষটা নেই জেনে 

বিশ্বস্ত হয়ে উঠেছে এখানের চারপাশ, 

রাস্তায় হেঁটে চলা যান্ত্রিক মানুষ, গলির মোড়,

এমনকি ভেন্টিলেটরে বাস করা আমাদের চড়ুইগুলোও। 

রোজ শুভ্র সকালে তাদের মিষ্টি মধুর সাংসারিক ঝগড়াতে 

আমার চোখ মেলা হয়। 

ভীষণ মুগ্ধতায় মেলা হয় জানালার পর্দাগুলো।

ব্যস্ততা আর নির্জন অন্ধকারে ঘুরছে যাপনের কাটা।

এখন ভালোবাসা হয় প্রতিটি বিষণ্ণ সন্ধ্যা,

অবান্তর চিন্তায় বাষ্পীভূত হতে হতে জুস হয়ে উঠা চা। 

ভালোবাসা হয়, রাতের তারাপথ— প্রশ্নবিদ্ধ অন্ধকার!

স্মৃতি রোমন্থনে কেটে গেছে গোটা কয়েক চৈত্র।

পূর্ণিমা তিথিতে আর কেউ বসেনি আমার পাশে,

হৃদয়াবেশে জড়িয়ে নেয়নি সরল ভালোবাসায়।

তবুও তো কেটে যাচ্ছে বেলা। কেটে যাচ্ছে প্রেমে।

জাগছে না চুমুর শিহরণ, মিথ্যা হাসির অভিনয়। 

বুকফাটা আত্মচিৎকার— অভিমানী সব গান

এখানে এখন আর তোলে না করুণ রাগের সুর।

তপ্ত জলের প্রতিটি ফোঁটায় ফোঁটায় 

এখানে ভেসে উঠে না আর কোনো 

হৃদয়পোড়ানো মানুষের মুখচ্ছবি...

শখ

অনেকের অনেক কিছু হওয়ার শখ থাকে।

আমি জন্ম থেকেই কবিতান্ধ মানুষ।

কর্পোরেট জগত আমাকে টানেনি,

আমাকে টানেনি ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হবার শখ।

তবে আজকাল আমার বড্ড শখ হয় আপনার বাসার ওই চিমচাম বেলকনি হতে!

রোজ কতো শতোবার বেখেয়ালি মন খারাপ ভর করে আপনার উপর,

হেমন্ত পেরিয়ে মনাকাশে আষাঢ় দেখা দিলেই, আপনাকে বেলকনি ছুঁতে পারে।

ছুঁতে পারে টবে ঝুলে থাকা নীল অপরাজিতারা। 

মায়াবী মুখটাতে আনমনা ভাব নিয়ে আকাশে চোখ রাখা আপনাকে দেখে দেখে 

একদিন ফুলগুলো ঝরে গিয়েও কীযে শান্তি পাবে!

ভাবতেই আমার এক্ষুনি মানুষজন্ম পাল্টে ফুল হয়ে যেতে ইচ্ছে করছে।

ইচ্ছে করছে আপনার ওই ড্রেসিং টেবিলের আয়না হয়ে যেতে।

যার সামনে দাঁড়িয়ে নির্বিঘ্নে সারিয়ে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করেন শ্রীহীন দেখানো যাবতীয় খুঁত।

সবাই আপনার ছোঁয়া পায়, দেখতে পায় আয়নার মতো প্রাণভরে।

কেবল মানুষ হওয়ার কারণেই মানুষকে এখানে অতো সহজে ছোঁয়া যায় না।

মানুষের ছোঁয়াছুঁয়িতে নাকি পাপ থাকে, পাপ থাকে দৃষ্টি এবং অদৃশ্য কল্পনায় আপনাকে ভাবাতে।

আমি জানি, সৌন্দর্য বিচারে আপনি টিথুনাসের আরোরা কিংবা আফ্রোদিতি নন। নিতান্তই মৃম্ময়ী কেউ।

তবু কেনো আপনাকে দেখে আমার অতকিছু হবার শখ জাগে?

বেলকনি অথবা নীল অপরাজিতা হবার শখ আমি অকপটে বলে ফেলেছি যদিও।

কিন্তু বুকের খুব গভীর সুড়ঙ্গের ভেতর লুকিয়ে রাখা একটি শখ আমাকে উস্কানি দিচ্ছে প্রতিনিয়ত,

অথচ হারিয়ে ফেলার ভয়ে শরমিন্দা মুখে কখনোই বলা হয়নি সে শখের কথা, 

বারবার আমি বেলকনি কিংবা নীলঅরাজিতার কথায় বলতে পেরেছি,

বলতে পেরেছি আপনার স্পর্শ পাওয়া আরো অনেক কিছুর কথা;

আমার নির্লজ্জ মনটার যে আপনাকে পাওয়ার বড্ড শখ, 

সে কথা আমার কখনোই বলা হয়ে উঠেনি...

ব্যালকনির স্মৃতি 

মনোবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে যদিও 

মানুষের মন দেখা যায় না!

কিন্তু ওপারের ব্যালকনিতে পায়চারি করা 

ষোড়শী হরিণীর চোখে একবার আমি আমার

নিখোঁজ হওয়া মন দেখেছিলাম।

তার এলোকেশ বেয়ে ঝরে ঝরে পড়ছিলো ক্যামেলিয়া,

ঘোলাটে চোখ দুটোকে মনে হচ্ছিলো

জীবনানন্দের পাখির নীড়

রাজ্যের বিস্ময় চোখে নিয়ে আমি মেয়েটিকে দেখতাম। 

আমার কাছে মনে হতো —

মেয়েটি সুন্দরের উৎকৃষ্ট উপমা!

আর আমাদের সাক্ষাতের সময়টুকু ছিলো

কবিতার মতো অতৃপ্ত, আবছায়া, আগ্রহের...

মেয়েটির পিঙ্গল চোখের ডানায়

যেনো আমি দূরবীন জাহাজের মাস্তুল খুঁজে

তরঙ্গের মতোই হয়রান।

আমাদের দৃষ্টির এই আলাপচারিতা 

মুখনিঃসৃত ধ্বনির মতো 'প্রেম' উচ্চারিত হতে হতে

মিলিয়ে গেলো বিস্তৃত দিগন্তের দিকে...

মায়ার কাজলে ভেজা দৃষ্টির সীমানা পেরিয়ে

ব্যালকনির সেই মোহমীয় স্মৃতি আজ

স্তম্ভিত পাথরের মতো জমাটবদ্ধ অন্ধকার মাত্র!

প্রণয় কিংবা প্রত্যাশা

তুই আমাকে রাখিস সঙ্গোপনে

রাখিস ধরে গ্রীবার কাছাকাছি

যত্নে গড়া মায়ার প্রাচীর জুড়ে

লক্ষ্মীটি তুই খেলিস কানামাছি!

অভিমানের রাত্রি শেষের ভোরে

আলতো ধরে করিস আঁকিবুঁকি

শুদ্ধতম আলিঙ্গনের পরে —

আমরা হবো নিজের মুখোমুখি! 

তুই আমাকে চলার পথটা জুড়ে

সঙ্গে রাখিস ছায়ার মতো করে–

নিবিড় ভাবে তোর চাহনির জাদু

বিভোর করুক একটা জনম ভরে!

আপনার মতামত লিখুন

পর্যন্ত নিউজ

মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬


তানভীর সিকদার-এর নির্বাচিত পাঁচটি কবিতা

প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬

featured Image

নিয়তি

গ্যালিলিওর পড়ন্ত বস্তুর সূত্র পড়তে পড়তে

প্রথমবার মন পিছলে আমি

পড়ে গিয়েছিলাম তোমার প্রেমে!

কোনো এক অদ্ভুত মোহাচ্ছন্ন জাদুতে

আমার কল্পনায় ধীরে ধীরে তুমি হয়ে উঠলে

লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চির সেই মোনালিসা।

পড়তে বসলেই —

পদার্থবিজ্ঞানের গতিবিদ্যা চ্যাপ্টারে ছাপার কালিতে বন্দী

যাপন করা হরফগুলো জড়ো হয়ে

এঁকে দেখাতো উপমাবিহীন তোমার দু'টি চোখ!

বস্তুর গতি কিংবা নিউটনের গতিসূত্র পাশ কাটিয়ে

নোটখাতার একপাশে স্থান করে নিয়েছিলো

প্রেমসূত্র— 'নিয়তি'

তারপর যেটুকু জিকির করলে 

ঈশ্বর নেমে আসে বুকে

তারও অধিক স্মরেছি তোমার নাম- নীরবে,ধ্বণিতে।

একপড়ন্ত বিকেলে কোচিং ফেরত 

আমরা হয়ে উঠলাম একে অপরের;

জংধরা অনুভূতিগুলো সজীব হয়ে উঠলো মুহুূর্তেই! 

পপকর্নের মতো ভালোবাসা ফোটতে থাকলো

তোমার দু'টি চঞ্চুতে, বিরামহীন।

আঙুলে আঙুল জড়িয়ে পায়ের স্কেল মাপতে মাপতে

আমরা যেনো বিলীন হয়ে যাচ্ছিলাম প্রীতির সবুজে।

হৃদয়ের সহস্র আকুতি, সুখ-দুঃখের হিসাব নিকাশ

আর ফোনের রিচার্জবিল সমান্তরাল রাখার শপথ নিয়ে

আমরা আমাদের দূরত্বের সময়টুকুর নাম রেখেছিলাম 'বিশ্বাস'।

ভালো থাকার রোজনামচা

চোখের আলপথ ধরে এখানে এখন আর স্বপ্ন আসে না।

তপ্ত জলের প্রতিটি ফোঁটায় ফোঁটায় এখানে ভেসে উঠে না

আর কোনো হৃদয় পোড়ানো মানুষের মুখচ্ছবি। 

এখানে এখন রোজ ভালোবাসা আসে–

এখানে এখন প্রতিটি মুহূর্তে ভালো থাকা আসে।

আগলে রাখার মানুষটা নেই জেনে 

বিশ্বস্ত হয়ে উঠেছে এখানের চারপাশ, 

রাস্তায় হেঁটে চলা যান্ত্রিক মানুষ, গলির মোড়,

এমনকি ভেন্টিলেটরে বাস করা আমাদের চড়ুইগুলোও। 

রোজ শুভ্র সকালে তাদের মিষ্টি মধুর সাংসারিক ঝগড়াতে 

আমার চোখ মেলা হয়। 

ভীষণ মুগ্ধতায় মেলা হয় জানালার পর্দাগুলো।

ব্যস্ততা আর নির্জন অন্ধকারে ঘুরছে যাপনের কাটা।

এখন ভালোবাসা হয় প্রতিটি বিষণ্ণ সন্ধ্যা,

অবান্তর চিন্তায় বাষ্পীভূত হতে হতে জুস হয়ে উঠা চা। 

ভালোবাসা হয়, রাতের তারাপথ— প্রশ্নবিদ্ধ অন্ধকার!

স্মৃতি রোমন্থনে কেটে গেছে গোটা কয়েক চৈত্র।

পূর্ণিমা তিথিতে আর কেউ বসেনি আমার পাশে,

হৃদয়াবেশে জড়িয়ে নেয়নি সরল ভালোবাসায়।

তবুও তো কেটে যাচ্ছে বেলা। কেটে যাচ্ছে প্রেমে।

জাগছে না চুমুর শিহরণ, মিথ্যা হাসির অভিনয়। 

বুকফাটা আত্মচিৎকার— অভিমানী সব গান

এখানে এখন আর তোলে না করুণ রাগের সুর।

তপ্ত জলের প্রতিটি ফোঁটায় ফোঁটায় 

এখানে ভেসে উঠে না আর কোনো 

হৃদয়পোড়ানো মানুষের মুখচ্ছবি...

শখ

অনেকের অনেক কিছু হওয়ার শখ থাকে।

আমি জন্ম থেকেই কবিতান্ধ মানুষ।

কর্পোরেট জগত আমাকে টানেনি,

আমাকে টানেনি ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হবার শখ।

তবে আজকাল আমার বড্ড শখ হয় আপনার বাসার ওই চিমচাম বেলকনি হতে!

রোজ কতো শতোবার বেখেয়ালি মন খারাপ ভর করে আপনার উপর,

হেমন্ত পেরিয়ে মনাকাশে আষাঢ় দেখা দিলেই, আপনাকে বেলকনি ছুঁতে পারে।

ছুঁতে পারে টবে ঝুলে থাকা নীল অপরাজিতারা। 

মায়াবী মুখটাতে আনমনা ভাব নিয়ে আকাশে চোখ রাখা আপনাকে দেখে দেখে 

একদিন ফুলগুলো ঝরে গিয়েও কীযে শান্তি পাবে!

ভাবতেই আমার এক্ষুনি মানুষজন্ম পাল্টে ফুল হয়ে যেতে ইচ্ছে করছে।

ইচ্ছে করছে আপনার ওই ড্রেসিং টেবিলের আয়না হয়ে যেতে।

যার সামনে দাঁড়িয়ে নির্বিঘ্নে সারিয়ে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করেন শ্রীহীন দেখানো যাবতীয় খুঁত।

সবাই আপনার ছোঁয়া পায়, দেখতে পায় আয়নার মতো প্রাণভরে।

কেবল মানুষ হওয়ার কারণেই মানুষকে এখানে অতো সহজে ছোঁয়া যায় না।

মানুষের ছোঁয়াছুঁয়িতে নাকি পাপ থাকে, পাপ থাকে দৃষ্টি এবং অদৃশ্য কল্পনায় আপনাকে ভাবাতে।

আমি জানি, সৌন্দর্য বিচারে আপনি টিথুনাসের আরোরা কিংবা আফ্রোদিতি নন। নিতান্তই মৃম্ময়ী কেউ।

তবু কেনো আপনাকে দেখে আমার অতকিছু হবার শখ জাগে?

বেলকনি অথবা নীল অপরাজিতা হবার শখ আমি অকপটে বলে ফেলেছি যদিও।

কিন্তু বুকের খুব গভীর সুড়ঙ্গের ভেতর লুকিয়ে রাখা একটি শখ আমাকে উস্কানি দিচ্ছে প্রতিনিয়ত,

অথচ হারিয়ে ফেলার ভয়ে শরমিন্দা মুখে কখনোই বলা হয়নি সে শখের কথা, 

বারবার আমি বেলকনি কিংবা নীলঅরাজিতার কথায় বলতে পেরেছি,

বলতে পেরেছি আপনার স্পর্শ পাওয়া আরো অনেক কিছুর কথা;

আমার নির্লজ্জ মনটার যে আপনাকে পাওয়ার বড্ড শখ, 

সে কথা আমার কখনোই বলা হয়ে উঠেনি...

ব্যালকনির স্মৃতি 

মনোবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে যদিও 

মানুষের মন দেখা যায় না!

কিন্তু ওপারের ব্যালকনিতে পায়চারি করা 

ষোড়শী হরিণীর চোখে একবার আমি আমার

নিখোঁজ হওয়া মন দেখেছিলাম।

তার এলোকেশ বেয়ে ঝরে ঝরে পড়ছিলো ক্যামেলিয়া,

ঘোলাটে চোখ দুটোকে মনে হচ্ছিলো

জীবনানন্দের পাখির নীড়

রাজ্যের বিস্ময় চোখে নিয়ে আমি মেয়েটিকে দেখতাম। 

আমার কাছে মনে হতো —

মেয়েটি সুন্দরের উৎকৃষ্ট উপমা!

আর আমাদের সাক্ষাতের সময়টুকু ছিলো

কবিতার মতো অতৃপ্ত, আবছায়া, আগ্রহের...

মেয়েটির পিঙ্গল চোখের ডানায়

যেনো আমি দূরবীন জাহাজের মাস্তুল খুঁজে

তরঙ্গের মতোই হয়রান।

আমাদের দৃষ্টির এই আলাপচারিতা 

মুখনিঃসৃত ধ্বনির মতো 'প্রেম' উচ্চারিত হতে হতে

মিলিয়ে গেলো বিস্তৃত দিগন্তের দিকে...

মায়ার কাজলে ভেজা দৃষ্টির সীমানা পেরিয়ে

ব্যালকনির সেই মোহমীয় স্মৃতি আজ

স্তম্ভিত পাথরের মতো জমাটবদ্ধ অন্ধকার মাত্র!

প্রণয় কিংবা প্রত্যাশা

তুই আমাকে রাখিস সঙ্গোপনে

রাখিস ধরে গ্রীবার কাছাকাছি

যত্নে গড়া মায়ার প্রাচীর জুড়ে

লক্ষ্মীটি তুই খেলিস কানামাছি!


অভিমানের রাত্রি শেষের ভোরে

আলতো ধরে করিস আঁকিবুঁকি

শুদ্ধতম আলিঙ্গনের পরে —

আমরা হবো নিজের মুখোমুখি! 


তুই আমাকে চলার পথটা জুড়ে

সঙ্গে রাখিস ছায়ার মতো করে–

নিবিড় ভাবে তোর চাহনির জাদু

বিভোর করুক একটা জনম ভরে!


পর্যন্ত নিউজ


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পর্যন্ত নিউজ