রাজধানীর তেজগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে পরীক্ষা যেন হয়ে উঠেছে ব্যবসায়িক কলাকৌশল। ইনকোর্স পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নানা অনিয়ম এবং লাঞ্ছনার অভিযোগ ওঠে এই কলেজের বিরুদ্ধে।
‘শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা বঞ্চিত করল তেজগাঁও কলেজ’ শিরোনামে গত বছরের মার্চ মাসে ‘দৈনিক রূপালী বাংলাদেশ’ ও ‘আজ্কালের খবর’সহ অসংখ্য গণমাধ্যমে একযোগে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। সেই ঘটনার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তিদায়ক হলেও বছর না ঘুরতেই পুনরায় একই অমানবিক পথে হাঁটছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) তেজগাঁও কলেজে অনুষ্ঠিত অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের দ্বিতীয় ইনকোর্স পরীক্ষায় বেতন বকেয়া থাকার অজুহাতে শিক্ষার্থীদের খাতা টেনেহিঁচড়ে নিয়ে পরীক্ষা থেকে বের করে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তারা ফরম ফিলাপের আগে কোনো বকেয়া রাখেন না। সামনে কোরবানির ঈদ থাকায় অনেকের পরিবারেই আর্থিক টানাপোড়েন থাকতে পারে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুসারে সময়মতো কোর্স সম্পন্ন করাই প্রধান বিষয় হলেও, প্রতিবছর ইনকোর্স পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীদের ওপর চরম মানসিক অত্যাচার করা হয়। এমনকি গত বছর আন্দোলনের ফলে মাসিক বেতন ও পুনর্ভর্তি ফি কমানো হলেও, বছর ঘুরতেই আবার আগের মতোই উচ্চহারে টাকা নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী জানান, কিছুদিন আগেই তারা ভর্তির ১৬ হাজার টাকার সঙ্গে ৬ মাসের ৯ হাজার টাকা বেতন জমা দিয়েছেন। কিন্তু পুনরায় চাপ প্রয়োগ করে আরও বেতন দাবি করা হচ্ছে। ইসলামিক স্টাডিজের এক শিক্ষার্থী আক্ষেপ করে বলেন, ‘মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে ঈদের আগে এই বিশাল অংকের টাকা দেওয়া অসম্ভব। তারা ঈদের পর টাকা পরিশোধের অঙ্গীকার করলেও শিক্ষকরা তা শোনেননি এবং পরীক্ষা চলাকালীন হল থেকে বের করে দেন।’
শিক্ষার্থীরা আরও জানান, তারা অনেকেই টাঙ্গাইল, কুমিল্লা, গাজীপুর বা ডেমরা থেকে কষ্ট করে পরীক্ষা দিতে আসেন। কেউ অফিস থেকে ছুটি নিয়ে আবার কেউ টিউশনির টাকা জমিয়ে পড়াশোনা চালাচ্ছেন।
তারা অভিযোগ করেন, ‘রোজার ঈদে সেশন ফির বড় অংকের টাকা দিয়েছি। অধ্যক্ষ ম্যাম মানবিক দিক বিবেচনা করে পরীক্ষার অনুমতি দিলেও কিছু শিক্ষক আমাদের কোনো কথাই শুনলেন না। খাতার অর্ধেক লেখা হয়ে গিয়েছিল, সেখান থেকে আমাদের টেনে বের করে দেওয়া হয়েছে।’
এই অবস্থায় শিক্ষকদের এমন জেদি আচরণের প্রতিকার এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন বাঁচাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগীরা।

মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬
রাজধানীর তেজগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে পরীক্ষা যেন হয়ে উঠেছে ব্যবসায়িক কলাকৌশল। ইনকোর্স পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নানা অনিয়ম এবং লাঞ্ছনার অভিযোগ ওঠে এই কলেজের বিরুদ্ধে।
‘শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা বঞ্চিত করল তেজগাঁও কলেজ’ শিরোনামে গত বছরের মার্চ মাসে ‘দৈনিক রূপালী বাংলাদেশ’ ও ‘আজ্কালের খবর’সহ অসংখ্য গণমাধ্যমে একযোগে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। সেই ঘটনার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তিদায়ক হলেও বছর না ঘুরতেই পুনরায় একই অমানবিক পথে হাঁটছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) তেজগাঁও কলেজে অনুষ্ঠিত অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের দ্বিতীয় ইনকোর্স পরীক্ষায় বেতন বকেয়া থাকার অজুহাতে শিক্ষার্থীদের খাতা টেনেহিঁচড়ে নিয়ে পরীক্ষা থেকে বের করে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তারা ফরম ফিলাপের আগে কোনো বকেয়া রাখেন না। সামনে কোরবানির ঈদ থাকায় অনেকের পরিবারেই আর্থিক টানাপোড়েন থাকতে পারে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুসারে সময়মতো কোর্স সম্পন্ন করাই প্রধান বিষয় হলেও, প্রতিবছর ইনকোর্স পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীদের ওপর চরম মানসিক অত্যাচার করা হয়। এমনকি গত বছর আন্দোলনের ফলে মাসিক বেতন ও পুনর্ভর্তি ফি কমানো হলেও, বছর ঘুরতেই আবার আগের মতোই উচ্চহারে টাকা নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী জানান, কিছুদিন আগেই তারা ভর্তির ১৬ হাজার টাকার সঙ্গে ৬ মাসের ৯ হাজার টাকা বেতন জমা দিয়েছেন। কিন্তু পুনরায় চাপ প্রয়োগ করে আরও বেতন দাবি করা হচ্ছে। ইসলামিক স্টাডিজের এক শিক্ষার্থী আক্ষেপ করে বলেন, ‘মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে ঈদের আগে এই বিশাল অংকের টাকা দেওয়া অসম্ভব। তারা ঈদের পর টাকা পরিশোধের অঙ্গীকার করলেও শিক্ষকরা তা শোনেননি এবং পরীক্ষা চলাকালীন হল থেকে বের করে দেন।’
শিক্ষার্থীরা আরও জানান, তারা অনেকেই টাঙ্গাইল, কুমিল্লা, গাজীপুর বা ডেমরা থেকে কষ্ট করে পরীক্ষা দিতে আসেন। কেউ অফিস থেকে ছুটি নিয়ে আবার কেউ টিউশনির টাকা জমিয়ে পড়াশোনা চালাচ্ছেন।
তারা অভিযোগ করেন, ‘রোজার ঈদে সেশন ফির বড় অংকের টাকা দিয়েছি। অধ্যক্ষ ম্যাম মানবিক দিক বিবেচনা করে পরীক্ষার অনুমতি দিলেও কিছু শিক্ষক আমাদের কোনো কথাই শুনলেন না। খাতার অর্ধেক লেখা হয়ে গিয়েছিল, সেখান থেকে আমাদের টেনে বের করে দেওয়া হয়েছে।’
এই অবস্থায় শিক্ষকদের এমন জেদি আচরণের প্রতিকার এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন বাঁচাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগীরা।

আপনার মতামত লিখুন