ঢাকা    মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
পর্যন্ত নিউজ

এমদাদ হোসেনের পাঁচটি কবিতা



এমদাদ হোসেনের পাঁচটি কবিতা
এমদাদ হোসেন ছবি: সৌজন্যে

মৌসুমের শুভেচ্ছা

এই আবেশময় মৌসুমের শুভেচ্ছা নিও,

শুনলাম, আমাকে তোমার ভালো লাগে না আর;

আমাকে অনুভব করছ না,

আমার জন্য মায়া হয় না আর।

বুকের ভেতর কথা জমাচ্ছ সংগোপনে,

কাছে টেনে নিতে চাচ্ছ অন্য একটি মুখ—

অন্য দুটো চোখ, অন্য একটা ঠোঁট।

আমায় এড়াতে হাজার ফন্দি আঁটছো,

অথচ বাইরে দেখাচ্ছ ব্যস্ততা!

আমি তোমাকে হৃদয় দিয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রেখেছিলাম,

অথচ বাইরের আবরণে তুমি আড়াল করে রেখেছিলে তোমার ভেতরটা।

তুমি অভিনেত্রী হলে আমি তোমাকে দশে—দশই দিতাম;

এমন নিখুঁত অভিনয় বোধহয় সুচিত্রারাও করতে পারেনি।

খুব শীঘ্রই তোমার কাছ থেকে 

নিজেকে ফিরিয়ে নিচ্ছি আমি,

তোমার জন্য আশীর্বাদ।

জেনে রেখো— যারা ঘনঘন মানুষ বদলায়,

তারা কখনো ভালোবাসতে শেখেনি;

তারা শুধু মানুষ বদলানোটাই শিখেছে।


টগর ফুলের মৌনতা

তোমার বাড়ির শান বাঁধানো পুকুরঘাটের পাশে,

আমার টগর ফুলের গাছ হতে ইচ্ছে করে;

ইচ্ছে করে তোমাকে নয়ন ভরে দেখি।

তুমি কীভাবে ঘর সামলাও—

হাঁড়িপাতিল, রান্না কিংবা খাবার,

সমস্ত আয়োজন দেখতে ইচ্ছে হয়।

দেখতে ইচ্ছে হয়— কীভাবে গোয়ালের গরু সামলাও,

সন্ধ্যায় কীভাবে ধূপ জ্বেলে দাও,

আর ধোঁয়া কীভাবে গলগল করে গোয়াল থেকে বের হয়।

আরও বেশি ইচ্ছে হয় রোজ তোমাকে দেখতে;

আটপৌরে শাড়ি কোমরে গুঁজে,

সারা সংসার মাথায় নিয়ে—

ছুটছো তুমি কেমন ক্লান্তিহীন!

কেমন যত্নে বুকের ভেতর লুকিয়ে রাখছো দুঃখ

তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করে,

একটি টগর ফুলের গাছ হয়ে।


অবিনশ্বর প্রতীক্ষা

তোমাকে না পাওয়ার তীব্র হাহাকারে—

একদিন খুব মরে যেতে ইচ্ছে হবে।

কোনো এক বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়,

যখন তোমার ব্যালকনিতে আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামবে;

ঠিক তখনই বাতাসের সাথে ভেসে আসবে আমার প্রয়াণ-সংবাদ।

খুব জানতে ইচ্ছে করে—

তখন কি তুমি চমকে উঠে ইন্নালিল্লাহ বলতে ব্যস্ত হবে?

নাকি পাথরের মূর্তির মতো নির্বাক তাকিয়ে থাকবে 

আকাশের বিশাল শূন্যতায়?

তুমি হয়তো জানবেও না,

আমি মরে গিয়েও একমুঠো তৃষ্ণার্ত বীজ হয়ে গেছি;

কোনো এক অবাধ্য মাধবীলতা কিংবা অপরাজিতার বীজ।

কাউকে বলে রেখেছি— আমায় যেন তোমার জানালার টবে খুব অযত্নে ছিটিয়ে দেয়।

মানুষ হয়ে যা পাওয়া হলো না, ফুল হয়ে আমি সেই তৃষ্ণাটুকু মেটাব; তোমার জানালার গ্রিল বেয়ে আমি রোজ ওপরে উঠব, আর প্রতিদিন নিভৃতে, নিঃশব্দে— তোমাকে দুচোখ ভরে দেখব।


শিউলি তলা

ইদানীং ইচ্ছে করেই আমার শিউলি ফুলের গাছ হতে ইচ্ছে করে।

ইচ্ছে করে-তোমার কবরের পাশেই ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকবো, ছায়া দিয়ে পরম যত্নে আগলে রাখবো তোমার কবর।

যদি তোমাকে ছুঁতে ইচ্ছে হয়, তবে এক ঝুড়ি ফুল ছিটিয়ে দেব তোমার কবরের উপরে।

কিছুদিনের ভেতর দেখা যাবে-ফুল আর মাটি এক হয়ে গেছে, অতঃপর আমি ধরে নেব তোমাকে স্পর্শ করতে পেরেছি


কতদিন হয়

কত দিন হয় তোমাকে ভালোবাসি বলিনি,

কত দিন হয় তোমার পাশে বসিনি।

কত দিন তোমার হাত ধরিনি, চুমু খাইনি,

চিবুকের সাথে চিবুক স্পর্শ করিনি।

কত দিন হয় তোমার বুকের ভেতর নদী দেখিনি,

পায়ের সাথে পা মিলিয়ে হাঁটিনি, বৃষ্টিতে ভিজিনি;

অপেক্ষা করিনি কত দিন—হয়তো তুমিও করোনি।

তবুও অসম্ভব রকম আনন্দে কেটে যাচ্ছে দিন,

বুকের ভেতর আচমকা বৃষ্টি নামে,

পাল তোলা নৌকা ছুটে যায় আরও দ্রুত বেগে,

কাশফুল ফোটে, আকাশ নরম আলোয় ভরে যায়।

অপেক্ষায় থাকে এক উন্মাদ কবি।

বিষয় : পর্যন্ত নিউজ শিল্প-সাহিত্য

আপনার মতামত লিখুন

পর্যন্ত নিউজ

মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬


এমদাদ হোসেনের পাঁচটি কবিতা

প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬

featured Image

মৌসুমের শুভেচ্ছা

এই আবেশময় মৌসুমের শুভেচ্ছা নিও,

শুনলাম, আমাকে তোমার ভালো লাগে না আর;

আমাকে অনুভব করছ না,

আমার জন্য মায়া হয় না আর।


বুকের ভেতর কথা জমাচ্ছ সংগোপনে,

কাছে টেনে নিতে চাচ্ছ অন্য একটি মুখ—

অন্য দুটো চোখ, অন্য একটা ঠোঁট।

আমায় এড়াতে হাজার ফন্দি আঁটছো,

অথচ বাইরে দেখাচ্ছ ব্যস্ততা!


আমি তোমাকে হৃদয় দিয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রেখেছিলাম,

অথচ বাইরের আবরণে তুমি আড়াল করে রেখেছিলে তোমার ভেতরটা।

তুমি অভিনেত্রী হলে আমি তোমাকে দশে—দশই দিতাম;

এমন নিখুঁত অভিনয় বোধহয় সুচিত্রারাও করতে পারেনি।


খুব শীঘ্রই তোমার কাছ থেকে 

নিজেকে ফিরিয়ে নিচ্ছি আমি,

তোমার জন্য আশীর্বাদ।

জেনে রেখো— যারা ঘনঘন মানুষ বদলায়,

তারা কখনো ভালোবাসতে শেখেনি;

তারা শুধু মানুষ বদলানোটাই শিখেছে।


টগর ফুলের মৌনতা

তোমার বাড়ির শান বাঁধানো পুকুরঘাটের পাশে,

আমার টগর ফুলের গাছ হতে ইচ্ছে করে;

ইচ্ছে করে তোমাকে নয়ন ভরে দেখি।


তুমি কীভাবে ঘর সামলাও—

হাঁড়িপাতিল, রান্না কিংবা খাবার,

সমস্ত আয়োজন দেখতে ইচ্ছে হয়।

দেখতে ইচ্ছে হয়— কীভাবে গোয়ালের গরু সামলাও,

সন্ধ্যায় কীভাবে ধূপ জ্বেলে দাও,

আর ধোঁয়া কীভাবে গলগল করে গোয়াল থেকে বের হয়।


আরও বেশি ইচ্ছে হয় রোজ তোমাকে দেখতে;

আটপৌরে শাড়ি কোমরে গুঁজে,

সারা সংসার মাথায় নিয়ে—

ছুটছো তুমি কেমন ক্লান্তিহীন!


কেমন যত্নে বুকের ভেতর লুকিয়ে রাখছো দুঃখ

তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করে,

একটি টগর ফুলের গাছ হয়ে।


অবিনশ্বর প্রতীক্ষা

তোমাকে না পাওয়ার তীব্র হাহাকারে—

একদিন খুব মরে যেতে ইচ্ছে হবে।

কোনো এক বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়,

যখন তোমার ব্যালকনিতে আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামবে;

ঠিক তখনই বাতাসের সাথে ভেসে আসবে আমার প্রয়াণ-সংবাদ।


খুব জানতে ইচ্ছে করে—

তখন কি তুমি চমকে উঠে ইন্নালিল্লাহ বলতে ব্যস্ত হবে?

নাকি পাথরের মূর্তির মতো নির্বাক তাকিয়ে থাকবে 

আকাশের বিশাল শূন্যতায়?


তুমি হয়তো জানবেও না,

আমি মরে গিয়েও একমুঠো তৃষ্ণার্ত বীজ হয়ে গেছি;

কোনো এক অবাধ্য মাধবীলতা কিংবা অপরাজিতার বীজ।

কাউকে বলে রেখেছি— আমায় যেন তোমার জানালার টবে খুব অযত্নে ছিটিয়ে দেয়।


মানুষ হয়ে যা পাওয়া হলো না, ফুল হয়ে আমি সেই তৃষ্ণাটুকু মেটাব; তোমার জানালার গ্রিল বেয়ে আমি রোজ ওপরে উঠব, আর প্রতিদিন নিভৃতে, নিঃশব্দে— তোমাকে দুচোখ ভরে দেখব।


শিউলি তলা

ইদানীং ইচ্ছে করেই আমার শিউলি ফুলের গাছ হতে ইচ্ছে করে।


ইচ্ছে করে-তোমার কবরের পাশেই ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকবো, ছায়া দিয়ে পরম যত্নে আগলে রাখবো তোমার কবর।


যদি তোমাকে ছুঁতে ইচ্ছে হয়, তবে এক ঝুড়ি ফুল ছিটিয়ে দেব তোমার কবরের উপরে।


কিছুদিনের ভেতর দেখা যাবে-ফুল আর মাটি এক হয়ে গেছে, অতঃপর আমি ধরে নেব তোমাকে স্পর্শ করতে পেরেছি


কতদিন হয়

কত দিন হয় তোমাকে ভালোবাসি বলিনি,

কত দিন হয় তোমার পাশে বসিনি।

কত দিন তোমার হাত ধরিনি, চুমু খাইনি,

চিবুকের সাথে চিবুক স্পর্শ করিনি।


কত দিন হয় তোমার বুকের ভেতর নদী দেখিনি,

পায়ের সাথে পা মিলিয়ে হাঁটিনি, বৃষ্টিতে ভিজিনি;

অপেক্ষা করিনি কত দিন—হয়তো তুমিও করোনি।


তবুও অসম্ভব রকম আনন্দে কেটে যাচ্ছে দিন,

বুকের ভেতর আচমকা বৃষ্টি নামে,

পাল তোলা নৌকা ছুটে যায় আরও দ্রুত বেগে,

কাশফুল ফোটে, আকাশ নরম আলোয় ভরে যায়।


অপেক্ষায় থাকে এক উন্মাদ কবি।


পর্যন্ত নিউজ


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পর্যন্ত নিউজ