নরসিংদীর মাধবদী পৌরসভার নিখোঁজ সরকারি যানবাহন অনুসন্ধানে নতুন অগ্রগতি হয়েছে। শিবপুর উপজেলার একটি গ্যারেজে অভিযান চালিয়ে পৌরসভার দুটি ড্রাম ট্রাক ও একটি পে-লোডার উদ্ধার করেছে জেলা প্রশাসন। এর আগে প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের চারটি ড্রাম ট্রাক ও একটি অ্যাম্বুলেন্স নিখোঁজ থাকার অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশক্রমে এবং নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দিকনির্দেশনায় শুক্রবার (১০ জুলাই) শিবপুর উপজেলার ইটাখোলা মোড়ে অবস্থিত চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং মটর ওয়ার্কস গ্যারেজে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে দুটি ড্রাম ট্রাক ও একটি পে-লোডার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া যানবাহনগুলো মাধবদী পৌরসভার কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
অভিযানকালে উদ্ধার হওয়া কোনো যানবাহনে নিবন্ধন নম্বর প্লেট পাওয়া যায়নি। তবে মাধবদী পৌরসভার কর্মচারী বজলু, হাসান, কামাল, আল-আমিন ও শহীদ যানবাহনগুলোকে পৌরসভার সম্পত্তি হিসেবে শনাক্ত করেন। গ্যারেজের মালিক তাজুল ইসলামও বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
জিজ্ঞাসাবাদে তাজুল ইসলাম প্রশাসনকে জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের অনেক আগে মাধবদী পৌরসভার চারটি ড্রাম ট্রাক ও একটি পে-লোডার মেরামতের জন্য তাঁর গ্যারেজে আনা হয়েছিল। এর মধ্যে দুটি ড্রাম ট্রাক মেরামত শেষে ৫ আগস্টের আগেই তৎকালীন পৌর মেয়রের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। বাকি দুটি ড্রাম ট্রাক ও একটি পে-লোডার দীর্ঘদিন তাঁর গ্যারেজে সংরক্ষিত ছিল। তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর এসব যানবাহনের বিষয়ে তিনি পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আর যোগাযোগ করেননি। এটিকে তিনি তাঁর একটি অনভিপ্রেত ত্রুটি হিসেবে উল্লেখ করেন।
অভিযান চলাকালে গ্যারেজে কোনো যানবাহনের প্রবেশ ও বহির্গমন (এন্ট্রি-এক্সিট) রেজিস্টার পাওয়া যায়নি।
এর আগে এই প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে মাধবদী পৌরসভার চারটি ড্রাম ট্রাক ও একমাত্র অ্যাম্বুলেন্স নিখোঁজ থাকার অভিযোগ উঠে আসে। সেই প্রতিবেদনে কয়েকটি যানবাহন শিবপুর এলাকায় থাকার অভিযোগও উঠে এসেছিল। সর্বশেষ অভিযানে নিখোঁজ যানবাহনের একটি অংশ উদ্ধার হওয়ায় ঘটনাটি নতুন মোড় নিয়েছে। তবে নিখোঁজ অ্যাম্বুলেন্সসহ অন্য যানবাহনের অবস্থান এবং সেগুলো কীভাবে গ্যারেজে পৌঁছায়, সে বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া চৌধুরীর উপস্থিতিতে অভিযানটি পরিচালিত হয়। প্রশাসন জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া যানবাহনের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুলাই ২০২৬
নরসিংদীর মাধবদী পৌরসভার নিখোঁজ সরকারি যানবাহন অনুসন্ধানে নতুন অগ্রগতি হয়েছে। শিবপুর উপজেলার একটি গ্যারেজে অভিযান চালিয়ে পৌরসভার দুটি ড্রাম ট্রাক ও একটি পে-লোডার উদ্ধার করেছে জেলা প্রশাসন। এর আগে প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের চারটি ড্রাম ট্রাক ও একটি অ্যাম্বুলেন্স নিখোঁজ থাকার অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশক্রমে এবং নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দিকনির্দেশনায় শুক্রবার (১০ জুলাই) শিবপুর উপজেলার ইটাখোলা মোড়ে অবস্থিত চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং মটর ওয়ার্কস গ্যারেজে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে দুটি ড্রাম ট্রাক ও একটি পে-লোডার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া যানবাহনগুলো মাধবদী পৌরসভার কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
অভিযানকালে উদ্ধার হওয়া কোনো যানবাহনে নিবন্ধন নম্বর প্লেট পাওয়া যায়নি। তবে মাধবদী পৌরসভার কর্মচারী বজলু, হাসান, কামাল, আল-আমিন ও শহীদ যানবাহনগুলোকে পৌরসভার সম্পত্তি হিসেবে শনাক্ত করেন। গ্যারেজের মালিক তাজুল ইসলামও বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
জিজ্ঞাসাবাদে তাজুল ইসলাম প্রশাসনকে জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের অনেক আগে মাধবদী পৌরসভার চারটি ড্রাম ট্রাক ও একটি পে-লোডার মেরামতের জন্য তাঁর গ্যারেজে আনা হয়েছিল। এর মধ্যে দুটি ড্রাম ট্রাক মেরামত শেষে ৫ আগস্টের আগেই তৎকালীন পৌর মেয়রের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। বাকি দুটি ড্রাম ট্রাক ও একটি পে-লোডার দীর্ঘদিন তাঁর গ্যারেজে সংরক্ষিত ছিল। তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর এসব যানবাহনের বিষয়ে তিনি পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আর যোগাযোগ করেননি। এটিকে তিনি তাঁর একটি অনভিপ্রেত ত্রুটি হিসেবে উল্লেখ করেন।
অভিযান চলাকালে গ্যারেজে কোনো যানবাহনের প্রবেশ ও বহির্গমন (এন্ট্রি-এক্সিট) রেজিস্টার পাওয়া যায়নি।
এর আগে এই প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে মাধবদী পৌরসভার চারটি ড্রাম ট্রাক ও একমাত্র অ্যাম্বুলেন্স নিখোঁজ থাকার অভিযোগ উঠে আসে। সেই প্রতিবেদনে কয়েকটি যানবাহন শিবপুর এলাকায় থাকার অভিযোগও উঠে এসেছিল। সর্বশেষ অভিযানে নিখোঁজ যানবাহনের একটি অংশ উদ্ধার হওয়ায় ঘটনাটি নতুন মোড় নিয়েছে। তবে নিখোঁজ অ্যাম্বুলেন্সসহ অন্য যানবাহনের অবস্থান এবং সেগুলো কীভাবে গ্যারেজে পৌঁছায়, সে বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া চৌধুরীর উপস্থিতিতে অভিযানটি পরিচালিত হয়। প্রশাসন জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া যানবাহনের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন