ঢাকা    শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
পর্যন্ত নিউজ

​কোরবানিকে ঘিরে দুপচাঁচিয়ায় জমে উঠেছে কামারদের বেচাকেনা



​কোরবানিকে ঘিরে দুপচাঁচিয়ায় জমে উঠেছে কামারদের বেচাকেনা
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল আজহা যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ব্যস্ত হয়ে উঠছে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার কামারপল্লীগুলো। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আগুনের তাপ, হাতুড়ির শব্দ আর লোহা পেটানোর আওয়াজে মুখর হয়ে উঠেছে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কামারশালা। কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার প্রয়োজনীয় দা, ছুরি, চাপাতি, বঁটি ও হাসুয়া তৈরিতে এখন দম ফেলার ফুরসত নেই কামারশিল্পীদের।

​সরেজমিনে আজ বুধবার (২০ মে) দুপচাঁচিয়া পৌর এলাকার কর্মকারপাড়া মহল্লা ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি কামারশালায় চলছে ব্যস্ত কর্মযজ্ঞ। কোথাও পুরোনো দা-ছুরিতে শান দেওয়া হচ্ছে, কোথাও আবার তৈরি হচ্ছে নতুন চাপাতি। কয়লার চুলায় দগদগে আগুনে লোহা গরম করে দক্ষ হাতে তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের কোরবানির সরঞ্জাম। কেউ হাঁপর টানছেন, কেউ আগুনে লোহা পুড়িয়ে নিচ্ছেন, আবার কেউ নিখুঁতভাবে ধার দিচ্ছেন পুরোনো অস্ত্রশস্ত্রে।

​কামারশিল্পীরা জানান, সারা বছর কাজের চাপ তুলনামূলক কম থাকলেও কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে তাদের কর্মব্যস্ততা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। নতুন সরঞ্জাম তৈরির পাশাপাশি পুরোনো দা-ছুরি শান দিতে ক্রেতাদের ভিড়ও বাড়ছে প্রতিদিন।

​পৌর এলাকার কামারশিল্পী মানিক কর্মকার ও ধীরেন চন্দ্র কর্মকার জানান, একটি ভালো মানের ছুরি তৈরি করতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লাগে। প্রথমে লোহা আগুনে গরম করে পানিতে ঠান্ডা করা হয়। এরপর হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে কাঙ্ক্ষিত আকার দেওয়া হয়। পরে ঘষামাজা ও বিশেষ প্রক্রিয়ায় ধারালো করে প্রস্তুত করা হয় দা কিংবা ছুরি।

​তারা বলেন, ‘বছরের এই সময়টাই আমাদের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়। সারা বছর তেমন কাজ থাকে না। কোরবানির ঈদ এলেই একটু বেশি আয় হয়। তখন পরিবার নিয়ে কিছুটা স্বস্তিতে চলতে পারি।’

​এদিকে কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় নতুন সরঞ্জাম তৈরিতে খরচ আগের চেয়ে কিছুটা বেশি হচ্ছে বলে জানান কামাররা।

আপনার মতামত লিখুন

পর্যন্ত নিউজ

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬


​কোরবানিকে ঘিরে দুপচাঁচিয়ায় জমে উঠেছে কামারদের বেচাকেনা

প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬

featured Image

পবিত্র ঈদুল আজহা যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ব্যস্ত হয়ে উঠছে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার কামারপল্লীগুলো। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আগুনের তাপ, হাতুড়ির শব্দ আর লোহা পেটানোর আওয়াজে মুখর হয়ে উঠেছে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কামারশালা। কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার প্রয়োজনীয় দা, ছুরি, চাপাতি, বঁটি ও হাসুয়া তৈরিতে এখন দম ফেলার ফুরসত নেই কামারশিল্পীদের।

​সরেজমিনে আজ বুধবার (২০ মে) দুপচাঁচিয়া পৌর এলাকার কর্মকারপাড়া মহল্লা ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি কামারশালায় চলছে ব্যস্ত কর্মযজ্ঞ। কোথাও পুরোনো দা-ছুরিতে শান দেওয়া হচ্ছে, কোথাও আবার তৈরি হচ্ছে নতুন চাপাতি। কয়লার চুলায় দগদগে আগুনে লোহা গরম করে দক্ষ হাতে তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের কোরবানির সরঞ্জাম। কেউ হাঁপর টানছেন, কেউ আগুনে লোহা পুড়িয়ে নিচ্ছেন, আবার কেউ নিখুঁতভাবে ধার দিচ্ছেন পুরোনো অস্ত্রশস্ত্রে।

​কামারশিল্পীরা জানান, সারা বছর কাজের চাপ তুলনামূলক কম থাকলেও কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে তাদের কর্মব্যস্ততা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। নতুন সরঞ্জাম তৈরির পাশাপাশি পুরোনো দা-ছুরি শান দিতে ক্রেতাদের ভিড়ও বাড়ছে প্রতিদিন।

​পৌর এলাকার কামারশিল্পী মানিক কর্মকার ও ধীরেন চন্দ্র কর্মকার জানান, একটি ভালো মানের ছুরি তৈরি করতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লাগে। প্রথমে লোহা আগুনে গরম করে পানিতে ঠান্ডা করা হয়। এরপর হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে কাঙ্ক্ষিত আকার দেওয়া হয়। পরে ঘষামাজা ও বিশেষ প্রক্রিয়ায় ধারালো করে প্রস্তুত করা হয় দা কিংবা ছুরি।

​তারা বলেন, ‘বছরের এই সময়টাই আমাদের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়। সারা বছর তেমন কাজ থাকে না। কোরবানির ঈদ এলেই একটু বেশি আয় হয়। তখন পরিবার নিয়ে কিছুটা স্বস্তিতে চলতে পারি।’

​এদিকে কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় নতুন সরঞ্জাম তৈরিতে খরচ আগের চেয়ে কিছুটা বেশি হচ্ছে বলে জানান কামাররা।


পর্যন্ত নিউজ


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পর্যন্ত নিউজ