কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতিতে বিশ্বজুড়ে কর্মক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসছে। অনেক কাজ স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ায় চাকরির ধরন বদলে যাচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে কিছু চাকরি হারানোর আশঙ্কাও বাড়ছে। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, কিছু মানবিক ও সামাজিক দক্ষতা আগামী বহু বছরেও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির দ্বারা সহজে প্রতিস্থাপিত হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় বলা হয়েছে, আগামী দশ বছরে বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ চাকরি স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির আওতায় চলে যেতে পারে। বর্তমানে তথ্য বিশ্লেষণ, কোড লেখা, কনটেন্ট তৈরি এবং প্রশাসনিক অনেক কাজ প্রযুক্তি করতে পারলেও মানুষের আবেগ বোঝা, বিচারবোধ, সহমর্মিতা এবং সামাজিক সম্পর্ক তৈরির মতো ক্ষমতায় এখনো মানুষের বিকল্প নেই।
গবেষণায় বিভিন্ন চাকরির বিজ্ঞাপন, নিয়োগদাতাদের চাহিদা এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে প্রতিস্থাপিত হওয়ার সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করে দক্ষতাগুলোর ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, নেতৃত্ব, আবেগ বোঝার ক্ষমতা এবং জটিল সামাজিক পরিস্থিতি সামলানোর দক্ষতাগুলো সবচেয়ে বেশি নিরাপদ।
তালিকার শীর্ষে রয়েছে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা। গবেষণা অনুযায়ী, নেতৃত্বের কিছু অংশ প্রযুক্তি দিয়ে করা সম্ভব হলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণ, বিশ্বাস তৈরি এবং মানবিক সম্পর্ক ব্যবস্থাপনার মূল দিকগুলো এখনো যন্ত্রের বাইরে। এ কারণে এই দক্ষতাকে সবচেয়ে নিরাপদ হিসেবে ধরা হয়েছে।
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দলগতভাবে কাজ করার দক্ষতা। কার্যকরভাবে দল পরিচালনা শুধু কাজ ভাগ করে দেওয়ার বিষয় নয়, বরং সহকর্মীদের মানসিক অবস্থা বোঝা, পারস্পরিক যোগাযোগ রক্ষা করা এবং দীর্ঘমেয়াদি আস্থা তৈরি করার বিষয়ও এর সঙ্গে যুক্ত। এসব জটিল মানবিক কারণে এই দক্ষতা এখনো প্রযুক্তির জন্য পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করা কঠিন।
তৃতীয় স্থানে রয়েছে আলোচনা ও সমঝোতার দক্ষতা। তথ্য সংগ্রহ বা বিশ্লেষণে প্রযুক্তি সহায়তা করতে পারলেও সফল আলোচনার জন্য আবেগ বোঝা, আস্থা তৈরি করা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো মানবিক দক্ষতা প্রয়োজন হয়।
এর পাশাপাশি কোচিং ও পরামর্শ দেওয়ার দক্ষতাকেও তুলনামূলকভাবে নিরাপদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একজন মানুষের সমস্যা বা দুর্বলতার পেছনের আসল কারণ বুঝতে শুধু তথ্য যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন মানবিক উপলব্ধি ও সহমর্মিতা।
মানুষের সামনে কথা বলার দক্ষতাও তালিকার শীর্ষের দিকে রয়েছে। আত্মবিশ্বাস, ব্যক্তিত্ব এবং উপস্থিত বুদ্ধির মাধ্যমে শ্রোতাদের প্রভাবিত করার ক্ষমতা এখনো প্রযুক্তি পুরোপুরি অনুকরণ করতে পারে না।
শীর্ষ দশে আরও রয়েছে সংগঠন পরিচালনা, জনবল ব্যবস্থাপনা, আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা, আন্তঃব্যক্তিক যোগাযোগ এবং পরিবর্তন ব্যবস্থাপনার মতো দক্ষতাগুলো।
গবেষণা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদে কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিয়ে শিক্ষাব্যবস্থার অগ্রাধিকার পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন হতে পারে। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনো অনেক ক্ষেত্রে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, অথচ এসব কাজই দ্রুত স্বয়ংক্রিয় হয়ে উঠছে।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতিতে বিশ্বজুড়ে কর্মক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসছে। অনেক কাজ স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ায় চাকরির ধরন বদলে যাচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে কিছু চাকরি হারানোর আশঙ্কাও বাড়ছে। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, কিছু মানবিক ও সামাজিক দক্ষতা আগামী বহু বছরেও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির দ্বারা সহজে প্রতিস্থাপিত হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় বলা হয়েছে, আগামী দশ বছরে বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ চাকরি স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির আওতায় চলে যেতে পারে। বর্তমানে তথ্য বিশ্লেষণ, কোড লেখা, কনটেন্ট তৈরি এবং প্রশাসনিক অনেক কাজ প্রযুক্তি করতে পারলেও মানুষের আবেগ বোঝা, বিচারবোধ, সহমর্মিতা এবং সামাজিক সম্পর্ক তৈরির মতো ক্ষমতায় এখনো মানুষের বিকল্প নেই।
গবেষণায় বিভিন্ন চাকরির বিজ্ঞাপন, নিয়োগদাতাদের চাহিদা এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে প্রতিস্থাপিত হওয়ার সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করে দক্ষতাগুলোর ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, নেতৃত্ব, আবেগ বোঝার ক্ষমতা এবং জটিল সামাজিক পরিস্থিতি সামলানোর দক্ষতাগুলো সবচেয়ে বেশি নিরাপদ।
তালিকার শীর্ষে রয়েছে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা। গবেষণা অনুযায়ী, নেতৃত্বের কিছু অংশ প্রযুক্তি দিয়ে করা সম্ভব হলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণ, বিশ্বাস তৈরি এবং মানবিক সম্পর্ক ব্যবস্থাপনার মূল দিকগুলো এখনো যন্ত্রের বাইরে। এ কারণে এই দক্ষতাকে সবচেয়ে নিরাপদ হিসেবে ধরা হয়েছে।
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দলগতভাবে কাজ করার দক্ষতা। কার্যকরভাবে দল পরিচালনা শুধু কাজ ভাগ করে দেওয়ার বিষয় নয়, বরং সহকর্মীদের মানসিক অবস্থা বোঝা, পারস্পরিক যোগাযোগ রক্ষা করা এবং দীর্ঘমেয়াদি আস্থা তৈরি করার বিষয়ও এর সঙ্গে যুক্ত। এসব জটিল মানবিক কারণে এই দক্ষতা এখনো প্রযুক্তির জন্য পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করা কঠিন।
তৃতীয় স্থানে রয়েছে আলোচনা ও সমঝোতার দক্ষতা। তথ্য সংগ্রহ বা বিশ্লেষণে প্রযুক্তি সহায়তা করতে পারলেও সফল আলোচনার জন্য আবেগ বোঝা, আস্থা তৈরি করা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো মানবিক দক্ষতা প্রয়োজন হয়।
এর পাশাপাশি কোচিং ও পরামর্শ দেওয়ার দক্ষতাকেও তুলনামূলকভাবে নিরাপদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একজন মানুষের সমস্যা বা দুর্বলতার পেছনের আসল কারণ বুঝতে শুধু তথ্য যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন মানবিক উপলব্ধি ও সহমর্মিতা।
মানুষের সামনে কথা বলার দক্ষতাও তালিকার শীর্ষের দিকে রয়েছে। আত্মবিশ্বাস, ব্যক্তিত্ব এবং উপস্থিত বুদ্ধির মাধ্যমে শ্রোতাদের প্রভাবিত করার ক্ষমতা এখনো প্রযুক্তি পুরোপুরি অনুকরণ করতে পারে না।
শীর্ষ দশে আরও রয়েছে সংগঠন পরিচালনা, জনবল ব্যবস্থাপনা, আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা, আন্তঃব্যক্তিক যোগাযোগ এবং পরিবর্তন ব্যবস্থাপনার মতো দক্ষতাগুলো।
গবেষণা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদে কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিয়ে শিক্ষাব্যবস্থার অগ্রাধিকার পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন হতে পারে। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনো অনেক ক্ষেত্রে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, অথচ এসব কাজই দ্রুত স্বয়ংক্রিয় হয়ে উঠছে।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

আপনার মতামত লিখুন