নরসিংদী জেলার মাধবদী থানাধীন কাঠালিয়া ইউনিয়নের দরিকান্দি গ্রামে দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের যে সংস্কৃতি চলছে, ৫ই আগস্টের পটপরিবর্তনের পর তার রূপ বদলেছে ঠিকই, কিন্তু প্রকৃত মালিকদের কপালে জোটেনি শান্তি। উল্টো এবার ধর্মীয় অনুভূতিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে জমি দখল করছে এক প্রভাবশালী চক্র। এমনই এক তথ্য পর্যন্ত নিউজের কাছে আসলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার এক পরিবারের প্রায় ৪০ শতাংশ জমি স্থায়ীভাবে গ্রাস করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে এলাকার প্রভাবশালী নেতা মতিন মোল্লা, আনোয়ার হোসেন, জাকির হোসেন, নুরুল ইসলাম প্রমুখ।এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মোহাম্মদ শাহজাহান, খাদিজা বেগম ও সুফিয়া আক্তার জানান, এই বিশাল জমিটি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দখলে ছিল। গত ৫ই আগস্টের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে গেলে সমঝোতার মাধ্যমে মালিকরা তাদের পৈতৃক সম্পত্তির দখল ফিরে পান। তবে সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, এলাকার প্রভাবশালী গংরা জমিটির ওপর কুনজর দেয়। দখল পাকাপোক্ত করতে তারা কৌশলে সেখানে ঈদগাহ নির্মাণের ঘোষণা দেয়। গত পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে তড়িঘড়ি করে জমিতে মাটি ভরাট, চারদিকে দেয়াল নির্মাণ এবং মিম্বার তৈরি করে তারা ঈদের জামাতের আয়োজন করে। মূলত জমির মালিকদের বাধা এড়াতেই এমন ধর্মীয় আবেগ জড়ানো কৌশল নেওয়া হয় বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।বিচারের আশায় মালিকপক্ষ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দ্বারস্থ হলে শুরু হয় আরেক দফা প্রহসন। কাঠালিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদসহ কয়েকজনের উপস্থিতিতে সালিশ বসানো হয়। সেখানে বর্তমান বাজারমূল্যের তোয়াক্কা না করে মাত্র ৭ লক্ষ টাকায় জমিটি লিখে দিতে মালিকদের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করা হয়। অথচ কয়েকদিন আগেই একই এলাকায় মাত্র ১২ শতাংশ জমি বিক্রি হয়েছে ২৫ লক্ষ টাকায়। সেই হিসেবে ৪০ শতাংশ জমির মূল্য ৪৮ লক্ষ টাকারও বেশি হলেও প্রভাবশালীরা নামমাত্র মূল্যে তা হাতিয়ে নিতে মরিয়া।নিরুপায় হয়ে গত শুক্রবার জমির মালিকরা প্রতিবাদ করলে তাদের ওপর চড়াও হয় দখলদাররা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতিবাদ করায় তাদের মারধরের এবং প্রাণনাশের হুমকির মতো ঘটনাও ঘটেছে।