প্রিন্ট এর তারিখ : ১২ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬
আজ বিশ্ব মা দিবস
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
‘মা’ ছোট্ট একটি শব্দ, অথচ এর গভীরতা আকাশসম। পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর ডাকটি আজ প্রতিধ্বনিত হচ্ছে বিশ্বজুড়ে। মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব মা দিবস। জন্মদাত্রী মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের বিশেষ এই দিনটি ঘিরে আবেগে ভাসছে কোটি সন্তান।মা শুধু একজন অভিভাবক নন, তিনি সন্তানের প্রথম শিক্ষক, প্রথম আশ্রয় এবং নিঃস্বার্থ ভালোবাসার প্রতীক। সন্তানের হাসির জন্য নিজের সুখ বিসর্জন দেওয়া এই মানুষটির অবদান কখনোই পরিমাপ করা সম্ভব নয়। তাই মা দিবস কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং মায়ের ত্যাগ ও ভালোবাসাকে স্মরণ করার একটি বিশেষ উপলক্ষ।বিশ্ব মা দিবস পালনের ইতিহাস শত বছরেরও বেশি পুরোনো। ১৯০৮ সালে মার্কিন নাগরিক আনা জার্ভিস তার প্রয়াত মায়ের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রথমবারের মতো মা দিবস উদযাপনের উদ্যোগ নেন। পরবর্তীতে ১৯১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারকে জাতীয়ভাবে ‘মা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।বাংলাদেশেও দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। সকাল থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মায়েদের নিয়ে আবেগঘন স্ট্যাটাস, ছবি ও স্মৃতিচারণে সরব নেটিজেনরা। অনেকে ফুল, কেক কিংবা পছন্দের উপহার দিয়ে মাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। আবার যারা মাকে হারিয়েছেন, তারা মায়ের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দোয়া ও মাগফিরাত কামনা করছেন।তবে মা দিবস এলেই সামনে আসে আরেকটি বাস্তবতা, বৃদ্ধাশ্রমে থাকা অসহায় মায়েদের গল্প। ব্যস্ততার এই সময়ে অনেক মা আপনজনের সঙ্গ হারিয়ে নিঃসঙ্গ জীবন কাটাচ্ছেন। সচেতন মহলের মতে, শুধুমাত্র একটি দিনের ভালোবাসা নয়, প্রতিটি দিনেই মায়ের প্রতি দায়িত্ব, সম্মান ও যত্ন নিশ্চিত করা উচিত।মায়ের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের জন্য কোনো নির্দিষ্ট দিনের প্রয়োজন হয় না। কারণ সন্তানের প্রতিটি নিঃশ্বাসে, প্রতিটি সফলতায়, প্রতিটি কষ্টের মুহূর্তে জড়িয়ে থাকেন মা।পৃথিবীর সবাই স্বার্থের হিসাব বুঝলেও মা বুঝেন শুধু সন্তানের মুখের হাসি। নিজের না খেয়ে সন্তানকে খাইয়ে দেওয়া, রাত জেগে সন্তানের অসুখে পাশে থাকা, হাজার কষ্ট লুকিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলাই যেন মায়ের জীবনের একমাত্র দায়িত্ব।একটি দিন হয়তো মায়ের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের উপলক্ষ হতে পারে, কিন্তু মায়ের ঋণ কখনো একটি দিনে শোধ হওয়ার নয়। কারণ পৃথিবীতে নিঃস্বার্থ ভালোবাসার সবচেয়ে বড় নামই হলো, মা।তবুও বিশেষ এই দিনে পৃথিবীর সকল মায়ের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা, অফুরন্ত ভালোবাসা এবং সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনের শুভকামনা।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পর্যন্ত নিউজ