প্রিন্ট এর তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুলাই ২০২৬
নরসিংদীতে শিশুর পা ভাঙার ভাইরাল ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি, দাবি পরিবার ও পুলিশের
নিজস্ব প্রতিবেদক, নরসিংদী ||
নরসিংদীর সদর উপজেলার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকারদী এলাকায় তিন মাস বয়সী এক শিশুর পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি নিয়ে সামনে এসেছে ভিন্ন তথ্য।শিশুটির পরিবার এবং পুলিশ বলছে, ভিডিওটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্পাদনা করা হয়েছে। বাস্তবে শিশুটির পা ভাঙেনি।পরিবারের দাবি, জহিরুল মিয়া ও সায়মা আক্তার দম্পতির তিন মাস বয়সী ছেলে রিজিক জন্মের পর থেকেই বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিল। সেই সময় সংসারের কাজকর্ম নিয়ে সায়মার জা লতা বেগমের সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের সৃষ্টি হয়।অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১১ জুন ওই বিরোধের জেরে লতা বেগম শিশুটির পায়ে মোচড় দেন। ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করা হলেও পরে সেটি এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে এমনভাবে সম্পাদনা করা হয়, যাতে দেখে মনে হয় শিশুটির পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এরপর ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।ভাইরাল ভিডিওর সত্যতা যাচাই করতে মঙ্গলবার শিশুটির বাড়িতে যায় মাধবদী থানা পুলিশ। সেখানে শিশুটিকে দেখে তার পা ভাঙা, প্লাস্টার করা কিংবা গুরুতর কোনো আঘাতের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানায় পুলিশ।পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটির বাবা জহিরুল মিয়া ও মা সায়মা আক্তার জানান, তাদের সন্তানের পা ভাঙেনি। ভাইরাল ভিডিওটি এআই দিয়ে সম্পাদনা করা হয়েছে। বর্তমানে শিশুটির পায়ে কোনো ব্যান্ডেজ বা প্লাস্টারও নেই।তারা আরও জানান, পারিবারিক বিরোধের জেরে শিশুটির পায়ে মোচড় দেওয়ার ঘটনা ঘটলেও পরে দুই পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিজেদের মধ্যে মীমাংসা করে নেন।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন বলেন, তদন্তে শিশুটির পা ভাঙার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। তিনি নিজেও শিশুটিকে দেখেছেন। এ ছাড়া শিশুটির বাবা-মা থানায় এসে জানিয়েছেন, এ ঘটনায় তাদের কোনো অভিযোগ নেই।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পর্যন্ত নিউজ